শিরোনাম :
নবীনগর বাজারের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ না করার দাবিতে ও স্মারকলিপি প্রদান নবীনগরে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লাঠি খেলা দেখতে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। নবীনগর উপজেলা শাখা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বাসকপ) আংশিক কমিটি ঘোষণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মাসুম নবীনগর সাংবাদিক সমিতির আত্মপ্রকাশ, সভাপতি কাউছার, সম্পাদক মেহেদী নবীনগরে নৌকার প্রার্থী ফয়জুর রহমান বাদলকে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত নবীনগরে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন। নবীনগরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। সূর্যতরুন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা গুণীদের কদর না করলে কখনোই সমাজে গুণীরা তৈরি হয় না:ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী বর্তমান সময়ে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নাই:সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল।
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে সাদিয়া।

প্রতিনিধির নাম / ৫৮৫ বার
আপডেট : বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

মমিনুল হক রুবেল,স্টাফ রিপোর্টার

বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা
উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিল সাদিয়া আক্তার।চোখ মুছতে মুছতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ওই শিক্ষার্থী। বুধবার ভোররাতে তার মা জলি
আক্তার (৩৭) ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাদিয়া আক্তার পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের
প্রবাসী শফিকুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে। সে মধ্যনগর নানার বাড়িতে থেকে
সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

জানা যায়, জলি বেগম বুধবার ভোররাতে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার লাশ বাড়িতে আসার পর বাড়িজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়, স্বজনরা যখন মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মায়ের মৃত্যুর পর সাদিয়া ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে
পরীক্ষা দিতে আসে। পরীক্ষা শেষে সাদিয়া বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর আসর
নামাজের পর মধ্যনগর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। বুধবার সকাল
১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে সাদিয়া আক্তার পরীক্ষার কেন্দ্রে আসে। সহপাঠী
ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় তৃতীয় দিনের ইংরেজি
প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ আলী বলেন, মা হারানো শিক্ষার্থী সাদিয়া খুবই মেধাবী। পরীক্ষার কক্ষে মাঝে মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা তাকে উৎসাহিত করেছে। তবে মাঝে মধ্যেই তাকে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষার খাতায় লিখতে দেখা গেছে।
সাদিয়ার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সবাই জানতে পেরেছিলাম। আমরা তাকে
সান্ত্বনা দিয়েছি।

সাদিয়া আক্তার জানায়- মা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা
করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। মায়ের
আত্মাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন,পরীক্ষার্থীর মায়ের মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা
করার জন্য কেন্দ্র সচিবকে বলা হয়েছে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ