শিরোনাম :
নবীনগর বাজারের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ না করার দাবিতে ও স্মারকলিপি প্রদান নবীনগরে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লাঠি খেলা দেখতে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। নবীনগর উপজেলা শাখা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বাসকপ) আংশিক কমিটি ঘোষণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মাসুম নবীনগর সাংবাদিক সমিতির আত্মপ্রকাশ, সভাপতি কাউছার, সম্পাদক মেহেদী নবীনগরে নৌকার প্রার্থী ফয়জুর রহমান বাদলকে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত নবীনগরে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন। নবীনগরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। সূর্যতরুন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা গুণীদের কদর না করলে কখনোই সমাজে গুণীরা তৈরি হয় না:ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী বর্তমান সময়ে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নাই:সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল।
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

শুধু আইন নয়, বদলাতে হবে আামাদের মানসিকতা

প্রতিনিধির নাম / ৬৪৫ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩

নুর মোহাম্মদ নবীনগর –

আমাদের সমাজে ঘুস-দুর্নীতি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে৷ কারণ হলো, দুর্নীতির সংজ্ঞা আমরা নিজেদের মতো করে পাল্টে নিয়েছি। সমাজের প্রতিটি স্তরেই যার যেটুকু ক্ষমতা আছে, সেটি ব্যবহার করেই অন্যায় পথে অর্থ বা সুবিধা অর্জনকে আমরা এখন রীতিমতো ‘অধিকার’ বলে মানছি।
সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে সিএনজি অটোরিক্সার মিটারে চলাচলের ঘোষণা দিয়েছিলো। ভাড়া বাড়িয়েও তাদের মিটারে চলাচল নিশ্চিত করা যায়নি। হাইওয়েতে সিএনজি চলাচল বন্ধের পদক্ষেপও নেয়া হয়েছিলো। সেখান থেকেও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সরকার। বাস ভাড়ায় নৈরাজ্যতো রয়েছেই, বার বার আস্ফালন-হুঙ্কারেও কাজ হয়নি।

কিছুদিন আগের কথা, রমজান মাসে সরকার কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫২৫ টাকা গরুর মাংসের দাম বেঁধে দিল, কিন্তু ঢাকার প্রায় সবগুলো মাংসের দোকানেই তা বিক্রি হয়েছে বেশি দামে৷ আর ঈদের আগে সেটি পৌঁছায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি দেয়া সম্ভব-মোট কথা যার হাতে যতোটুকু ক্ষমতা আছে, তার জোরেই আইন বা প্রশাসনকে অবজ্ঞা করে চলছে অবৈধ পথে উপার্জন৷

দুর্নীতির আরেকটি প্যানডোরা বাক্স খুলে গেল রমজান মাসে পরিচালিত ভেজাল বিরোধী অভিযানে। অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানও এই জালে আটকা পড়লো। আমরা শিউরে উঠলাম, খাবারের নামে অসাধু ব্যবসায়ীরা আমাদের কী খাওয়াচ্ছে, সেই চিত্র দেখে। এই বিষয়গুলো যদি সত্যিই আমরা আমলে নিতাম, তাহলে আজকে গুলশান-বানানীর অনেক অভিযাত রেস্তোরায় বসে বসে মাছি মারতে হতো। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। ভেজালের দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দেদারসে পণ্য বিক্রি করছে, দণ্ড বা জরিমানা কবুল করা হোটেল রেস্তোরাগুলো খদ্দের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, একই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি একধিকবার একই অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন, কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির উন্নয়ন না করেই নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু আইন প্রয়োগ করে বা শাস্তি দিয়ে দুর্নীতির এই পাহাড়কে টলানো যাবে না। দুর্নীতি দূর করতে হলে এই সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার, প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আর নিজের সুবিধা অনুযায়ী ন্যায়-অন্যায়ের সংজ্ঞা ঠিক না করে ভেজাল-দুর্নীতি-ঘুসসহ সবধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।

নুর মোহাম্মদ

সাধারণ সম্পাদক 

নবীনগর থানা প্রেসক্লাব 

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ